দূর্নীতিতে কয়েকবারের চ্যাম্পিয়ন আর সফটওয়্যার পাইরেসীতে রানার্স আপ এই দেশ মাতার অপমান আর লজ্জা বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের মাথা হেঁট করে দিচ্ছে, দেয়। আমরা সফটওয়্যার চোর, তাই আমাদের বড় গলায় কথা বলা সাধে না। আর এই নতজানু মনোভাবের কারণে বাইরের দেশ ও বিদেশী সংস্থা কর্তৃক শোষিত হই আমরা, বাংলাদেশীরা। বিদেশী বেনিয়ারা অসম এবং ক্ষতিকারক চুক্তি চাপিয়ে দেয় সহজেই।

দেশের একজন সাধারন নাগরিক হিসেবে আমাদের ক্ষমতা সীমিত। আর সেই সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই এই লজ্জা আর অপমানের হাত থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ খোঁজে আত্মসম্মানী ও দেশপ্রেমিক নাগরিকগণ। সফটওয়্যার দূর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচে স্থান পাবার মূল কারনটাই হলো “পাইরেটেড বা চোরাই সফটওয়্যার”। প্রযুক্তি পন্যের দেশীয় বাজারে একজন বিক্রেতা হার্ডওয়্যার পন্য বা কম্পিউটার বিক্রয়ের সময়ে কয়েক লাখ টাকার চোরাই সফটওয়্যার ভরে দিচ্ছেন ক্রেতার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে, আর ক্রেতাও অজ্ঞতার বশে নিয়েই আসেন পাইরেসীর গ্লানি ও পাপ। অথচ আমাদের সীমিত সামর্থের মধ্যেই এই পাপ ও গ্লানিময় লজ্জা থেকে আমরা বের হয়ে যেতে পারি। ফ্রী বা মুক্ত সফটওয়্যারসমূহ এবং ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমগুলো যৌথভাবে এই সুযোগ করে দিয়েছে, দিচ্ছে আমাদের। এই বিষয়টি আত্মসম্মানী ও বিবেকবান প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে থেকে যাঁরাই বুঝতে পেরেছেন, তাঁরাই ছুড়ে ফেলেছেন চোরাই সফটওয়্যার, বেছে নিয়েছেন গ্লানিহীন, অধিক নিরাপদ মুক্ত সফটওয়্যারের স্বাধীনতা।

কিন্তু স্বাধীনতা তো একলা ভোগ করার বিষয় নয়। আর তাই স্বাধীনভাবে মুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারকারী মানুষেরা মুক্তির ডাক নিয়ে যেতে চান সবার কাছে। সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে চান। এটার গুরুত্ব অনুধাবন করে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়ার কাজে সহায়তা করতে আগ্রহী হয় অনেক সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও। কিন্তু আইনের বেড়াজালে আবদ্ধ ঐসব প্রতিষ্ঠান কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি বিশেষের সাথে সহযোগীতা করার অধিকার/সুযোগ রাখে না। স্বাধীনতার এই আহ্বানকে আরও গতিশীল করতে কিছু মুক্ত মানুষ তাই সংগঠিত হয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে আইনসঙ্গতভাবে নিবন্ধিত করেন। ফলশ্রুতিতে বিবেকবান দেশপ্রেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এখন আর তাদেরকে সহায়তা করার আইনগত বাঁধা থাকলো না।

শুরু হলো এফওএসএস বাংলাদেশ এর পথচলা।