তথ্য প্রযুক্তি আমাদের জীবনধারনের অনেকাংশকে ইদানিংকালে বেশ বদলে দিয়েছে। আমরা বাস্তব জগত থেকে ভার্চুয়াল জগতেই নিজেদেরকে বেশি বেশি করে মানিয়ে নিয়েছি। আর সেই সুবাদে আমাদের অনেক একান্ত তথ্যই আমাদের সজান্তে কিংবা অজান্তে চলে গিয়েছে এবং যাচ্ছে সুবিশাল ভার্চুয়াল জগতে। আর এসব তথ্যের সংগ্রহকারী/সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ফেসবুক, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল, ইয়াহুর মত বড় বড় তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান।

আপনি আপনার পারিবারিক আয়োজনের ছবিগুলো আগ-পিছ কিছু চিন্তা না করেই ফেসবুকে সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছেন। কিন্তু আপনি কি চিন্তা করেছেন আপনার এই একান্ত তথ্য ছবি, ছবির পাত্র-পাত্রীরা, পরিবেশ কিংবা এই সবের একান্ত গোপনীয়তার বিষয়টুকু অনলাইনের এই জগতে কতটুকু সুরক্ষিত?

কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনষ্টিটিউটের পাঁচ মেয়ে তাদের কনভোকেশনের দিন যে ছবি তুলে তা অনলাইনের মাধ্যমে এক রাজনৈতিক দলের উন্নয়নের বিলবোর্ডে চলে যায়। এই বিষয নিয়ে ঐ পাঁচ মেয়ের প্রত্যেকেই বিব্রত হয়েছে। এই ভাবে ব্যক্তিগত তথ্য কোথা থেকে কোথায় চলে যাচ্ছে, কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কেউ বিক্রি করছে কিনা তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

জেনে রাখুন যে – ফেসবুকের আয়ের একটা বড় উৎস হল এঁর ব্যবহারকারীদের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্যগুলোকে বিক্রি/ব্যবহার করে লব্ধ অর্থ। আপনি আপনার বন্ধুদের সাথে কি ধরনের লিংক আদান প্রদান করছেন, কোন ধরনের ওয়েব আপনাদের পছন্দ, কি খবার বেশী খেতে পছন্দ করেন এমন অনেক তথ্যই ফেসবুক বেচে দিচ্ছে বিভিন্ন বিপনন প্রতিষ্ঠানে।

আর ইয়াহু কিংবা গুগল? সে তো আপনার সার্চ ইন্টারেস্ট দেখেই কিন্তু আপনার ওয়েব পেইজে, আপনার মেইলের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন নিয়ে হাজির হয়।

তাহলে নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এখন বাণিজ্যের প্রধাণ উপকরণ! আমাদের অসচেতনতাই এই কাজগুলোকে বাড়তে দিচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতন করতে মজিলা ফাউন্ডেশন এই বছর ২৮শে জানুয়ারী তারিখ আন্তর্জাতিকভাবে পালন করতে যাচ্ছে “একান্ত তথ্য সুরক্ষা দিবস-২০১৪”। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা, এফওএসএস বাংলাদেশ ঐ দিনে বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপন করতে যাচ্ছি। এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগীতা দিচ্ছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার প্রকৌশল বিভাগ।

এই আয়োজনে আমরা সবার মাঝে যেভাবে একান্ত তথ্যের সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই:
১। অনলাইনে কিভাবে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ক্ষুন্ন হচ্ছে তা সম্পর্কে নিজ নিজ অভিজ্ঞতা উপস্থিতির মাঝে ছড়িয়ে দেয়া
২। একান্ত তথ্যের সুরক্ষার ক্ষেত্রে করণীয়গুলো সম্পর্কে আগ্রহী সবাইকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ।
৩। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে একান্ত তথ্য সুরক্ষার গুরুত্ব এবং আমাদের দেশে আইনগত রক্ষাবুহ্য সম্পর্কে ধারনা।

উন্নত দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা এই আয়োজনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে তাঁদের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার একান্ত তথ্য সুরক্ষা কার্যালয়, সাইবার ডাটা রিস্ক ম্যানেজারস, এডুকয, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়, হ্যাভপ্রুফ ডট কম, ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডার একান্ত তথ্য কমিশনারের কার্যালয়, রেপুটেশন ডট কম, হোগান লাভেলস, টিচপ্রাইভেসী এবং যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনার কার্যালয় অন্যতম।

আয়োজনের সূচী: ২৮ জানুয়ারী ২০১৪ইং, মঙ্গলবার। সকাল ১০টা ৩০মিনিট থেকে দুপুর ১টা।
আয়োজনের স্থান: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, শুক্রাবাদ, ঢাকা।

আশা করি আপনারা আয়োজনে উপস্থিত থেকে অনলাইনে আপনার একান্ত তথ্যের সুরক্ষার মত প্রয়োজনীয় বিষয়টি জেনে নিবেন। আয়োজনে আপনার উপস্থিতি নিশ্চিত করে এই লিংক থেকে প্রাপ্ত ফর্মে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন।


“একান্ত তথ্য সুরক্ষা দিবস – ২০১৪” – বাংলাদেশ উদযাপন পরিষদ