“উন্মুক্ত শিক্ষা দিবস – ২০১৪” — বাংলাদেশ আয়োজন

“উন্মুক্ত শিক্ষা দিবস” আয়োজনটি একটি বৈশ্বিক আয়োজন। মানে পুরো পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থানে বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এই আয়োজনে অংশ নেবে এবং সক্রিয়ভাবে উদযাপন করবে দিবসটিকে। উন্মুক্ত শিক্ষা আন্দোলন একটি সামাজিক আন্দোলন যার উদ্দেশ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে “শিক্ষা” নামক মৌলিক অধিকারটুকু সবার জন্য সুনিশ্চিত করা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উন্মুক্ত শিক্ষা আন্দোলন উন্মুক্ত সফটওয়্যার, উন্মুক্ত পাঠ্যবই, উন্মুক্ত শিক্ষা উপকরন তৈরি করতে, ব্যবহার করতে এবং মানোন্নয়ন করতে উৎসাহ প্রদান করে থাকে।

Read More

ডঃ রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান এর বাংলাদেশ সফর

মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি সামাজিক আন্দোলন যার উদ্দেশ্য কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অধিকার সংরক্ষণ করা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন, মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করতে, ব্যবহার করতে এবং মানোন্নয়ন করতে উৎসাহ প্রদান করে। ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোন একদিনে রিচার্ড স্টলম্যান নামের সফটওয়্যারের যাদুকর এক বদ্ধ উন্মাদ নিজের মোটা মাইনের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে শুরু করেছিলেন মানবতার জন্য সফটওয়্যার উন্মুক্ত করার কাজ – “প্রজেক্ট গ্নু (GNU)”। সেই ব্যক্তিগত পাগলামো মার্কা উদ্যোগটাই আজ পৌঁছে গেছে সামগ্রিক ”সফটওয়্যার মুক্তি”র আন্দোলনে। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ”মুক্ত সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন” (Free Software Foundation বা FSF)। বিশ্বের বাঘা বাঘা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে এই সংগঠনের সহযোগী হিসেবে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় – ক্যানোনিক্যাল, গুগলের নাম।

বাংলাদেশে এই মুক্তপ্রযুক্তি আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আর প্রযুক্তিখাতে এই আন্দোলনের অবদান ও প্রয়োজনীয়তা সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে করে যাচ্ছে ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ বা এফওএসএস বাংলাদেশ (FOSS Bangladesh)। এফওএসএস বাংলাদেশ এর আমন্ত্রনে আগামী ১২ই ডিসেম্বর ২০১৪ইং, ডঃ রিচার্ড স্টলম্যান প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসবেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও এফওএসএস বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আসন্ন ১২ই ডিসেম্বর ২০১৪ইং শুক্রবার, দুপুর ২টা ৩০মিনিটে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সোবহানবাগ ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে “মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক একটি সমাজ” শীর্ষক সেমিনার। এই আয়োজনে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন ডঃ রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান বা আরএমএস।

মুক্তপ্রযুক্তি ও মুক্তপ্রযুক্তি আন্দোলনের জন্য মুক্ত সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন বা ফ্রী সফটওয়্যার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট ডক্টর রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান, প্রযুক্তিখাতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ইন্টারনেট হল অব ফেম এ উপস্থাপিত হয়েছেন। নিজের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এসিএম এর গ্রেস হপার অ্যাওয়ার্ড, ম্যাকআর্থার ফাউন্ডেশনের ফেলোশীপ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদানের জন্য তাকেদা অ্যাওয়ার্ড সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেছেন।

আয়োজন স্থল: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সোবহানবাগ ক্যাম্পাস, ৪/২ সোবহানবাগ, ঢাকা [১২ই ডিসেম্বর, দুপুর ২টা ৩০মিনিট থেকে]

আয়োজনের বিস্তারিত সূচী:
১। আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী ঘোষনা করা হবে।
২। আয়োজনে “মুক্ত প্রযুক্তি ভিত্তিক একটি সমাজ” শীর্ষক বক্তব্য উপস্থাপন করবেন ডঃ রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান।
৩। দর্শকদের সাথে সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব।
৪। আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনমূলক বক্তব্য।

মুক্ত প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহী সকলকে এই আয়োজনে যোগ দিতে উন্মুক্ত আহ্বান জানানো যাচ্ছে। আয়োজনে আপনার আসন নিশ্চিত করতে অগ্রীম রেজিষ্ট্রেশন করুন – লিংক থেকে। আয়োজনের বিস্তারিত ও বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের আয়োজনের অবস্থান দেখে/খুঁজে নিতে পারেন

আপডেট: ১২ই ডিসেম্বর, সন্ধ্যা ৭টা ২৫মিনিট

আয়োজনের কিছু ছবি।


লোমানী জেবী জোয়ারদার
গনযোগাযোগ সচিব, এফওএসএস বাংলাদেশ।

“সফটওয়্যার মুক্তি দিবস – ২০১৪” — বাংলাদেশ আয়োজন

মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন একটি সামাজিক আন্দোলন যার উদ্দেশ্য কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অধিকার সংরক্ষণ করা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলন, মুক্ত সফটওয়্যার তৈরি করতে, ব্যবহার করতে এবং মানোন্নয়ন করতে উৎসাহ প্রদান করে। ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোন একদিনে রিচার্ড স্টলম্যান নামের সফটওয়্যারের যাদুকর এক বদ্ধ উন্মাদ নিজের মোটা মাইনের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে শুরু করেছিলেন মানবতার জন্য সফটওয়্যার উন্মুক্ত করার কাজ – “প্রজেক্ট গ্নু (GNU)”। সেই ব্যক্তিগত পাগলামো মার্কা উদ্যোগটাই আজ পৌঁছে গেছে সামগ্রিক ”সফটওয়্যার মুক্তি”র আন্দোলনে। প্রতিষ্ঠা পেয়েছে ”মুক্ত সফটওয়্যার ফাউন্ডেশন” (Free Software Foundation বা FSF)। বিশ্বের বাঘা বাঘা সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যোগ দিয়েছে এই সংগঠনের সহযোগী হিসেবে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায় – ক্যানোনিক্যাল, গুগল, লিনাক্স ফাউন্ডেশনের নাম। ২০০৪ সাল থেকে এই আন্দোলনের শুরুর দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় শনিবারে।

Read More

“ডিআরএম” বা “ডিজিটাল রেস্ট্রিকশনস ম্যানেজমেন্ট” প্রতিরোধ দিবস – ২০১৪

প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অধিকার খর্ব করে এমন সব প্রযুক্তিকে প্রতিহত করতে এই বছরে এই দিবস আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে। প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা এবং পন্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক সাধারন ব্যবহারকারীদের নিকট তথ্য প্রদান না করা এবং তথ্য/প্রযুক্তি প্রাপ্তি/ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরাসরি/বিকল্প পন্থায় বাধাসৃষ্টিকারী প্রযুক্তি/ব্যবস্থাগুলোকে আমজনতার সামনে উপস্থাপন করতেই এই দিনটি পালন করা হয়।

২০১৩ইং বছরে আমরা এইচটিএমএল ৫ বা ওয়েব দুনিয়ার দখলদারীর উদ্দেশ্যে ইএমই বা এনক্রিপটেড মিডিয়া এক্সটেনশনস এবং ডিআরএম বা “ডিজিটাল রেস্ট্রিকশনস ম্যানেজমেন্ট” এর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রুখে দিতে এই দিনটি পালন করি। আগের বছরগুলোতে SOPA এবং PIPA প্রতিরোধে আমাদের সামগ্রিক আন্দোলনের কার্যকারীতা সবাই ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছেন এবং সেই প্রতিরোধের সুফলও ভোগ করছেন প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা, সকলেই।

আমরা এফওএসএস বাংলাদেশ পুরো বিশ্বের উন্মুক্ত মনা মানুষ ও প্রযুক্তিব্যবহারকারীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দিনে, ঢাকার ধানমন্ডি মিরপুর রোডের ১০২শুক্রাবাদে অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সকাল ১০টা ৩০মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৩০মিনিট অবদি একটি জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা এবং তার পরপরই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীর সকলকে সাথে নিয়ে মিনিট কুড়ি ব্যাপী একটি মানববন্ধন কর্মসূচী পালনের পরিকল্পনা করেছি। আশা রাখি আপনাদেরকে সহ দেশের সকল মুক্তমনা মানুষ এবং প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরকে এই দিনে আমাদের সাথেই পাবো।

আমাদের সাথে সরাসরি এই মানববন্ধনে অংশ নিন এবং এই দুষ্ট ডিআরএম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে অংশ নিন। ডিআরএম বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে দেখুন — http://www.defectivebydesign.org/what_is_drm


আয়োজনের ছবিসমূহের সংকলন

৪০৪ দিবস : তথ্যপ্রবাহে বিশেষ নিয়ন্ত্রনমূখী নজরদারীর প্রতিবাদে

বিগত ২০১৩ইং বছরের ৩রা এপ্রিল আমরা পালন করেছিলাম Day Against DRM বা ডিএডিআরএম দিবস। উদ্দেশ্য ছিলো এইচটিএমএল ৫ প্রযুক্তিতে ডিআরএম এর অযাচিত হস্তক্ষেপ রুখে দেয়া। আমরা সেই দিনটি বিশ্বের আরো অন্যান্য দেশের মুক্তপ্রযুক্তিকামী মানুষের সাথেই পালন করি আর ২০১২ইং সালে আমরা SOPA আর PIPA কে প্রতিরোধ করেছিলাম। সেইসকল প্রতিবাদের ফসল হিসেবে ডিআরএম এর থাবা বসাতে ব্যর্থ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চরম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

এই ষড়যন্ত্রের ফসল হিসেবে তাঁরা বিভিন্ন পড়াশোনার কেন্দ্র বা পাঠাগার বা লাইব্রেরীতে সেন্সর বা নজরদারী করার বিষয়ে চরম সক্রিয়তা দেখাচ্ছে, CIPA বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে। কে কোথায় কি কি বিষয় পড়ছে-জানছে-বুঝছে কিংবা কি কি বিষয়ে কাদের তথ্য জানতে দেয়া হবে বা হবেনা সেটা নির্ধারন করে দেবায় পাঁয়তারা চলছে তুমুলভাবে। সহজ বাংলায় এটা জ্ঞানার্জনের পথে অন্তরায় সৃষ্টির সুসংগঠিত একটি প্রক্রিয়ার সূচনামাত্র। আগামীতে এই প্রক্রিয়ার পথ ধরে উইকিমিডিয়ায় অবাধ তথ্যপ্রাপ্তি, বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে তথ্যের প্রবাহ ইত্যাদিও বাধাগ্রস্ত করাতেও সফল হবে ঐ সকল ষড়যন্ত্রীরা।

আশা করি আমরা সবাই এই প্রযুক্তি সচেতন হিসেবে এই ধরনের কূটপরিকল্পনাকে আর কিছু করতে পারি প্রতিবাদটুকু অন্তত জানাই। ডিজিটাল জগতে এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ইএফএফ বা ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন কর্তৃক 404 Day: A Day of Action Against Censorship in Libraries শিরোনামে নানান আয়োজনের মাধ্যমে আগামী ৪ঠা এপ্রিল শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা অবদি রাস্তায় মানববন্ধন সহ এবং ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন কায়দায় প্রতিবাদ জানানো হবে।

আসুন আমরা সবাই এই প্রতিবাদে শামিল হই, অন্যায়ের প্রতিবাদ করি। এফওএসএস বাংলাদেশ পরিবার এই প্রতিবাদ জানানোর প্রক্রিয়ায় মানববন্ধনের পরিকল্পনা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের (টিএসসির মোড়) সামনে। আন্তর্জাতিক পরিবারগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও ৪ঠা এপ্রিল শুক্রবার প্রতিবাদী মানববন্ধন করবো সকাল ১০টা থেকে ১১টা অবদি এবং আমাদের ওয়েব সাইটের সেবায় সাময়িত বিরতি টানবো সকাল ১০টা থেকে একটানা দুপুর ১টা অবদি।

আপনার সক্রিয় প্রতিবাদী মনোভাব বিশ্ববাসীকে জানাতে এই লিংকে আপনার সক্রিয়তা জানান দিন। আরো বিস্তারিত জানতে আগ্রহ থাকলে ঘুরে আসুনআশা করি আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ দিবসটি সফলভাবেই বাংলাদেশের প্রযুক্তিসচেতন জনতার মনে-প্রাণে প্রতিধ্বনিত হবে।